1. admin@durnitirsondhane.com : admin :
শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজধানীতে পতিতাদের অভিনব প্রতারণা।। ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে ট্রাংকের ভিতরে তোশক মোড়ানো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার। ঝিনাইদহ র‍্যাব – ৬ অভিযান চালিয়ে ১০১ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক। হয়রানীর আরেক নাম বাইক রাইডার।  যশোরে ২টি বেসরকারি ক্লিনিকের সকল প্রকার অপরেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ওয়েবসাইটে বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের অভিযোগ। যশোর চৌগাছায় সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু নিজেকে নির্দোশ প্রমাণ করতে সাংবাদিকদের জন্য ৪৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলেন- যশোর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন যশোরে যৌন উত্তেজক ভিডিও তৈরি, অপরাধে ডিবির হাতে আটক-২ যশোর অভয়নগরে সরকারি রাস্তা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।

জুয়েলারী শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বাজুস।

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৬২ বার পঠিত

সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে জুয়েলারি শিল্পের উন্নয়নে হবে মনে করছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আসন্ন জাতীয় বাজেট উপলক্ষ্যে তারা এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছে।

সংগঠনটি আগামী ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরের বাজেটে জুয়েলারি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ, অপরিশোধিত আকরিক সোনায় আরোপিত সিডি ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ ও আংশিক পরিশোধিত সোনার সিডি ১০ শতাংশের পরিবর্তে আইআরসি ধারী এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের শুল্কহার ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে।অর্ডার কমায় পোশাক কারখানায় কমেছে ব্যস্ততা
অর্ডার কমায় পোশাক কারখানায় কমেছে ব্যস্ততা।

মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে বাজুস কার্যালয়ে ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরের বাজেট উপলক্ষ্যে প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনটি করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর। আরও উপস্থিত আছেন বাজুসের সহ-সভাপতি ও স্ট্যাডিং কমিটি অন ট্যারিফ এন্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন,বাজুসের সহ-সভাপতি রিপনুল হাসান,বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, বাজুসের সহ-সম্পাদক ও স্ট্যাডিং কমিটি অন ট্যারিফ এন্ড ট্যাক্সেশনের ভাইস চেয়ারম্যান সমিত ঘোষ অপু, স্ট্যাডিং কমিটি অন ট্যারিফ এন্ড ট্যাক্সেশনের সদস্য সচিব পবন কুমার আগরওয়াল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,বাংলাদেশের মহান স্থাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাজুসের বর্তমান নেতৃত্ব বদ্ধপরিকর। বাজুস মনে করছে- আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাগরণ তুলবে জুয়েলারি শিল্প। বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ্যভাবে জুয়েলারি শিল্পে আনুমানিক ৪৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামীতে এই শিল্পে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে জুয়েলারি শিল্পে ভ্যালু এডিশন করে সোনার অলঙ্কার রপ্তানি সম্ভব। দুবাই যেমন সোনার ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে,তেমনি বাংলাদেশেও এই সম্ভাবনা রয়েছে। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন ছিল জাতির পিতার। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুয়েলারি শিল্পে করমুক্ত সুবিধা চাই। সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ গড়তে জুয়েলারি শিল্পে সকল সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।

দেশের প্রাচীন শিল্পের মধ্যে অন্যতম জুয়েলারি খাত। বর্তমানে চরম সঙ্কটে দিশেহারা এই জুয়েলারি শিল্পের জন্য প্রয়োজন সরকারের নীতি সহায়তা। অপার সম্ভাবনা থাকার পরও, সুষ্ঠু রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নীতি সহায়তার অভাবে জুয়েলারি শিল্প এখন হুমকির মুখে পড়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ২০২২ সালের প্রতিবেদন মোতাবেক বিশ্ব বাজারে সোনার চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৭৪০ টন। এরমধ্যে সোনার অলংকারের চাহিদা ২ হাজার ১৮৯ দশমিক ৮ টন।

বাংলাদেশে সোনার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪০ টন। তবে প্রকৃত চাহিদা নিরূপণে সরকারের সমীক্ষা প্রয়োজন। বৈধভাবে সোনার চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে বড় বাঁধা কাঁচামালের উচ্চমূল্য, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়, শিল্প সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির উচ্চ আমদানি শুল্ক। বর্তমানে জুয়েলারি শিল্পের প্রায় সকল ধরণের পণ্য ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। যা স্থানীয় অন্যান্য শিল্পে আরোপিত শুল্কের চেয়ে অনেক বেশি। এতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ৫ শতাংশ হারে উচ্চ ভ্যাট হার ও অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দামের পার্থক্য হচ্ছে। এতে ক্রেতা হারাচ্ছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ছোট জুয়েলারী ব্যবসায়ী।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয় এমন সঙ্কটেও সম্ভাবনার খবর হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে এই প্রথম সোনা পরিশোধনাগার স্থাপন করেছে।

বিশ্ব বাজারে আর কিছু দিন পর রপ্তানি হবে মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা সোনার বার ও অলংকার। কিন্তু এই পরিশোধনাগার স্থাপনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে প্রাথমিক পর্যায়েই উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। এই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতি নির্ধারকদের উপর অনেকখানি দায় বর্তায়। অবাস্তব নীতি প্রণয়ন, শুল্ক নির্ধারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গোঁড়ামি, ভ্যাট ও আয়কর কর্মকর্তাদের কর্তৃক ব্যবসায়িদের হয়রানি এবং আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস সদস্যদের ক্ষমতার অপব্যবহার এই শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি ও আতঙ্কের প্রধান কারণ। এতে সরকার প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বাজুস মনে করে- বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে জুয়েলারি খাতে আরোপিত শুল্ককর ও ভ্যাট হার কমানো এবং আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করতে হবে। এতে যেমন সরকারের বৈদেশিক আয় আসবে। তেমনি বাড়বে রাজস্ব আয়। বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেকটি খাত তৈরি হবে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ১২টি প্রস্তাব উপস্থাপন করছে বাজুস।
বর্তমানে জুয়েলারী ব্যবসার ক্ষেত্রে সোনা, সোনার অলংকার, রূপা বা রূপার অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা। সারাদেশে ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ইএফডি বসানো হলে, বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় সম্ভব হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমতা আসবে। এক্ষেত্রে বাজুসের স্পষ্ট বক্তব্য হলো- ইএফডি মেশিন সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে না বসিয়ে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।

বর্তমানে অপরিশোধিত আকরিক সোনার ক্ষেত্রে আরোপিত সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমদানি শুল্ক শর্তসাপেক্ষে ১ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছে বাজুস। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার উদ্দেশ্যে আইআরসি ধারী এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে জুয়েলারি শিল্পে শৃঙ্খলা আসবে। এটি একটি আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে পরিণত হবে। সোনা চোরাচালান বন্ধ হবে।

দেশের জুয়েলারি শিল্পের চাহিদা পূরণ করার স্বার্থে গোল্ড রিফাইনারী শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি একটি ভ্যাট নিবন্ধনকারী শিল্প এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল শিল্প। দেশের চাহিদা শুধু নয় বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য অপরিশোধিত আকরিক সোনা আমদানির ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হলে, স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ হবে। সরকার অধিক রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।

আংশিক পরিশোধিত সোনার ক্ষেত্রে সিডি ১০ শতাংশ এর পরিবর্তে আইআরসি ধারী এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের জন্য শুল্ক হার ৫ শতাংশ করা হোক।

বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্প পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে তৈরি পোশাক শিল্পের উপর। কিন্তু একটি শিল্প নির্ভর রপ্তানি খাত কতোটুকু ভয়াবহ, তা ভেনিজুয়েলার আর্থিক ধসের দিকে তাকালেই অনুমান করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, এসডিজি অর্জনে আমাদের রপ্তানি শিল্পকে বহুমুখী করার উদ্দেশ্যে জুয়েলারী শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক সহায়তা প্রদান জরুরি প্রয়োজন। যা আগামী ১০ বছরে রপ্তানি নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি খাতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।

হীরা কাটিং এবং প্রক্রিয়াজাত করণের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানিকৃত রাফ ডায়মন্ডে সিডি ১০%, এসডি ১০% প্রস্তাবিত শুল্ক হার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে বাজুস। বৈধ পথে মসৃণ হীরা আমদানিতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানিকৃত মসৃণ হীরা ৪০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিসন করার শর্তে এসডি ২০% করার প্রস্তাব করছি।

আয়কর আইনে ৪৬-(বিবি) (২) ধারার অধীনে গোল্ড রিফাইনারি বা সোনা পরিশোধনাগার শিল্পে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে প্রদানের করা হোক। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সর্ব প্রথম সোনা পরিশোধনাগার স্থাপন করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বড় ভূমিকা পালন করবে সোনা শিল্প। পরিশোধনাগার এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির শুল্ক কর ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে প্রাথমিক উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। কিন্তু আমরা যদি বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিশেষ করে চীন, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ভারত, ব্রাজিল, তুরস্ক ও কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দেখি, তাদের গোল্ড রিজার্ভ বাড়াচ্ছে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার এই বাজারে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনার চাহিদা ছিল ৪৫০ দশমিক ১ টন। যা ২০২২ সালে ১৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৫ দশমিক ৭ টন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে এ সকল দেশগুলোর বুলিয়ন মার্কেটে বড় ক্রেতাই হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। যা সে সকল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশেও সোনা পরিশোধনাগার স্থাপনের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এই পরিশোধনাগারকে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কর অবকাশ বড় ভূমিকা পালন করবে।

সোনার অলংকার প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও মেশিনারিজের ক্ষেত্রে সকল প্রকার শুল্ক কর অব্যাহতি প্রদান সহ ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে প্রদানের প্রস্তাব করেছে বাজুস।

বাংলাদেশের স্থানীয় স্বর্ণ বাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের স্বর্ণ মূল্য সব সময় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্পের উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যেক ধাপে ধাপে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ কাঁচামাল ও মেশিনারিজ আমদানিতে অসহনীয় শুল্ক-কর হার। ভোক্তা সুবিধা প্রদান ও মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবনা জুয়েলারি শিল্পকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিবে।

বৈধভাবে সোনার বার, সোনার অলংকার, সোনার কয়েন রপ্তানি উৎসাহিত করতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিসন করা রশর্তে, রপ্তানিকারকদের মোট ভ্যালু অ্যাডিসনের ৫০ শতাংশ হারে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করছি।

বিশ্বে অন্যান্য পণ্যের মতো স্বর্ণ শিল্পীদের হাতে তৈরি অলংকারের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। কিন্তু নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে জুয়েলারি শিল্প রপ্তানি খাত হিসেবে যতটুকু অবদান রাখতে পারতো, তার সিকি ভাগও হয়নি। ২০২৬ সালের মধ্যে সরকার যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি টার্গেট নিয়েছে, সে লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জুয়েলারী শিল্প। দেশের রপ্তানি খাতে জুয়েলারি শিল্পের অবদান বাড়াতে এই আর্থিক প্রণোদনা বড় ভূমিকা পালন করবে। এইচএস ভিত্তিক অস্বাভাবিক শুল্ক হার সমূহ হ্রাস করে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সঙ্গে শুল্ক হার সমন্বয়সহ এসআরও সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করছি।

চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহের উদ্ধারকৃত সোনার মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশ সংস্থা সমূহের সদস্যদের পুরস্কার হিসেবে প্রদানের প্রস্তাব করছি। ব্যাগেজ রুলের আওতায় সোনার বার ও অলংকার আনার সুবিধা অপব্যবহারের কারণে ডলার সংকট, চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং-এ কী প্রভাব পড়ছে, তা নিরূপনে বাজুসকে যুক্ত করে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা করার প্রস্তাব করছি।

বাজুসের প্রাথমিক ধারণা- প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করে প্রতিদিন সারাদেশের জল, স্থল ও আকাশ পথে কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সোনার অলংকার ও বার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। যা ৩৬৫ দিন বা এক বছর শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। দেশে চলমান ডলার সঙ্কটে এই ৭৩ হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার ও চোরাচালান বন্ধে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সোনার বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে চোরাকারবারিদের দেশি-বিদেশি সিন্ডিকেট।

কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে প্রতিনিয়ত স্থানীয় পোদ্দার বা বুলিয়ন বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হচ্ছে। পোদ্দারদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সোনার পাইকারি বাজার। পোদ্দারদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেটের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে স্থানীয় পোদ্দার বা বুলিয়ন বাজারেও সোনার দাম বাড়ানো হচ্ছে। এই সঙ্কট উত্তোরণে ব্যাগেজ রুলের আওতায় সোনার বার আনার ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক-করের হার বাড়াতে হবে। সরকারের ইতিবাচক চিন্তাধারায় দেশের সকল স্বর্ণশিল্প শ্রমিকদের উন্নয়ন ও ভোক্তাদের বিশেষ সুবিধা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 Durnitirsondhane
Theme Customized By Theme Park BD